সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) চতুর্মুখী হামলা চালিয়ে শহরের অর্ধেকের বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে। এর জবাবে রাশিয়ার বিমান বাহিনী ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সামরিক বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। এসব হামলায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।  

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রোববার (১ ডিসেম্বর) ভোরে আলেপ্পোসহ ইদলিব এবং হামা অঞ্চলে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায়। এতে এখন পর্যন্ত ৩০০ বিদ্রোহী নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে।  

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বলেছে, হায়াত তাহরির আল-শামের যোদ্ধারা আলেপ্পো বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা দখলে নিয়েছে। তারা ইদলিব প্রদেশের মারাত আল-নুমান শহরেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।  

বিদ্রোহীদের আকস্মিক এই আক্রমণকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের এক বড় টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিদ্রোহীরা বিশাল এলাকাজুড়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।  

রুশ সামরিক বাহিনীর সেন্টার ফর দ্য রিকনসিলিয়েশন অব দ্য এনিমি পার্টিস জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের আস্তানা, অস্ত্রাগার এবং কমান্ড পোস্ট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সমর্থনে পরিচালিত।  

আলেপ্পোতে এই বড় ধরনের হামলার সময় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ মস্কো সফরে রয়েছেন। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি রাশিয়ায় অবস্থান করায় দেশটির সামরিক বাহিনী নেতৃত্ব দিতে পারছেন না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  

 সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আলেপ্পো সরকারপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে বিদ্রোহীদের আকস্মিক আক্রমণে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়া সিরিয়ার জন্য বড় ধাক্কা।  

সিরীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, “বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে বড় আকারের আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের প্রতিরোধ এবং শহরের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।”  

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, তাস।